হাজতি আসামির হাতে দেওয়া পাউরুটিতে মিলল গাঁজা-ইয়াবা
শুনানি শেষে হাজতখানায় নেওয়ার পথে তল্লাশিতে ধরা পড়ে অভিনব কৌশল; সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্তের নির্দেশ

তৃণমূল ২৪ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত প্রাঙ্গণে এক হাজতি আসামির হাতে থাকা একটি পাউরুটির ভেতর থেকে গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর আদালত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) সিএমএম আদালতের ১১ নম্বর আদালতে শুনানি শেষে হাজতখানায় নেওয়ার সময় মামুন নামের এক আসামির কাছ থেকে ওই মাদক উদ্ধার করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত হাজিরার অংশ হিসেবে মামুনকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে এসকর্ট পুলিশ তাকে হাজতখানায় নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণের সিঁড়ির কাছে আসামির কয়েকজন স্বজন দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্যকে একটি পাউরুটি তার হাতে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন।
প্রথমে আপত্তি থাকলেও মানবিক দিক বিবেচনায় পাউরুটিটি আসামির হাতে দেওয়া হয়। তবে হাজতখানার মূল ফটকে নিয়মিত তল্লাশির সময় পুলিশ সদস্যদের সন্দেহ হলে পাউরুটিটি পরীক্ষা করা হয়। পরে পাউরুটির এক পাশে ছোট একটি ছিদ্র দেখতে পেয়ে সেটি খুলে দেখা হলে কাগজে মোড়ানো তিনটি গাঁজার পুরিয়া এবং তিনটি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের কনস্টেবল শাহেদ জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো খাবার বা প্যাকেট ভেতরে নেওয়ার অনুমতি ছিল না। তবে আসামির স্বজনদের অনুরোধে মানবিক বিবেচনায় পাউরুটিটি দেওয়া হয়েছিল। পরে হাজতখানার প্রবেশমুখে তল্লাশির সময় মাদক উদ্ধারের বিষয়টি জানা যায়।
এ বিষয়ে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আদালতের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামি ও খাবার সরবরাহকারী ব্যক্তিদের শনাক্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আদালতের হাজতখানা ও আসামি আনা-নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের নতুন করে ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

