
তৃণমূল ২৪| নিউজ ডেস্ক|১৯ আগষ্ট ২০২৬
মাধ্যমিক (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শেষে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ক্লাস শুরু করার কথা ভাবছে শিক্ষা প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের সময় বাঁচাতেই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আগে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে মধ্য নভেম্বরে ক্লাস শুরুর প্রস্তাব দিয়ে ভর্তি নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছিল। তবে এখন ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।
কমতে পারে ভর্তি আবেদনের ধাপ
সাধারণত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন তিন ধাপে নেওয়া হয়। প্রথম ধাপে আবেদন করে যারা কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হন না বা নির্বাচিত হয়েও নিশ্চায়ন করেন না, তারা দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করার সুযোগ পান। একইভাবে তৃতীয় ধাপেও আবেদন নেওয়া হয়।
তবে এবার এই ধাপের সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ভর্তি প্রক্রিয়া আরও দ্রুত শেষ করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, খসড়ায় তিন ধাপে আবেদন নেওয়ার প্রস্তাব থাকলেও ধাপের সংখ্যা কমতে পারে। কয় ধাপে আবেদন নেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এসএসসির ফলের ভিত্তিতেই হবে ভর্তি
বরাবরের মতো এবারও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম এবং পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতে নির্ধারিত আসনে তাদের ভর্তি হওয়ার জন্য নির্বাচন করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করার পরই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।
এবার পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। অর্থাৎ প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
একাদশে প্রায় ২৫ লাখ আসন
দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে প্রায় ২৫ লাখ আসন রয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের এসব প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি প্রক্রিয়া আলাদাভাবে চলবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পরও প্রায় সাড়ে ৭ লাখ আসন খালি থাকতে পারে।
সবকিছু ঠিক থাকলে ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর দ্রুত আবেদন গ্রহণ শুরু হবে এবং ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।



