কাঁচা মরিচের কেজি ৪০০ টাকা, অগ্নিমূল্যে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজার

তৃণমূল ২৪ ডেস্ক |প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬
টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার প্রভাবে রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও মাছ, ডিম, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ এবং অধিকাংশ সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, টানা বৃষ্টি, বন্যা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নের কারণে কৃষিপণ্য ও মাছের উৎপাদন কমেছে। একই সঙ্গে পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।
কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ৪০০ টাকা
সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম প্রায় ১০০ টাকা বেড়ে এখন প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নারিন্দা বাজারের এক বিক্রেতা জানান, গত সপ্তাহেও কাঁচা মরিচ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে পাইকারি বাজারেই দাম অনেক বেড়ে গেছে। ফলে খুচরা বাজারে ৪০০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দাম
এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বর্তমানে পাঙাশ ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, রুই ৩০০–৪৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০–৪০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০–৯০০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা, দেশি কৈ ৭০০–৮০০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে ইলিশের দাম আকারভেদে ১ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। এছাড়া রূপচাঁদা, লাল কোরাল, টুনা ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের দামও তুলনামূলক বেশি।
শতকের ঘরে সবজির দাম
রাজধানীর বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম এখন ১০০ টাকার ওপরে।
বর্তমানে লম্বা বেগুন ১২০–১৫০ টাকা, গোল বেগুন ১৮০ টাকা, সাদা বেগুন ১৪০ টাকা, করলা ১২০–১৪০ টাকা, বরবটি ১১০–১৩০ টাকা, চিচিঙ্গা ৯০–১০০ টাকা এবং কচুরমুখী ৮০–১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ধুন্দল ও পটোলের দাম কিছুটা কমে ৬০–৮০ টাকায় নেমেছে।
পেঁয়াজ ও ডিমের দামও বেড়েছে
দেশি পেঁয়াজ, যা কয়েক সপ্তাহ আগেও ৪০–৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, বর্তমানে মানভেদে ৫৫–৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ফার্মের মুরগির ডিমের দামও বেড়ে প্রতি ডজন ১৪৫–১৫৫ টাকায় পৌঁছেছে। তবে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
মাংসের দামে বড় পরিবর্তন নেই
গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০–৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০–১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের বাড়ছে দুর্ভোগ
বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, প্রতিদিনই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। সীমিত আয়ে সংসারের খরচ সামলানো দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।
একজন ক্রেতার ভাষায়, আগে সপ্তাহে অন্তত একদিন মাছ কেনা যেত। এখন ডিম, সবজি ও কাঁচা মরিচ কিনতেই বাজেটের বড় অংশ শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী দামে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে গেছে।



