অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি উৎপাদন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিন কারখানাকে ৯ লাখ টাকা জরিমানা
খোলা মুড়ির পাশে কবুতর পালন ও টয়লেটের পাশে শিল্প লবণ সংরক্ষণের মতো উদ্বেগজনক চিত্র

তৃণমূল ২৪ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বিসিক শিল্পনগরীতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি উৎপাদন এবং খাদ্য তৈরিতে শিল্প লবণ (ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট) ব্যবহারের অভিযোগে তিনটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার (২৬ জুলাই) বিসিক শিল্পনগরীতে পরিচালিত এ অভিযানে মেসার্স ভাই ভাই ফুড ইন্ডাস্ট্রি, মেসার্স বাবুল চিড়া মুড়ি ইন্ডাস্ট্রি এবং মেসার্স আমানত ফুড ইন্ডাস্ট্রি-তে তদারকি চালানো হয়।
অভিযানে দেখা যায়, তিনটি কারখানাতেই অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর, স্যাঁতসেঁতে ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মুড়ি উৎপাদন করা হচ্ছিল। এছাড়া নোংরা ড্রামে পানির সঙ্গে শিল্প লবণ মিশিয়ে তা মুড়ি তৈরিতে ব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়া যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও উঠে আসে, ভাই ভাই ফুড ইন্ডাস্ট্রিতে টয়লেটের পাশেই শিল্প লবণ সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। বাবুল চিড়া মুড়ি ইন্ডাস্ট্রিতে জেনারেটরের পাশে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে শিল্প লবণ রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে আমানত ফুড ইন্ডাস্ট্রিতে খোলা মুড়ির পাশেই কবুতর পালন করা হচ্ছিল, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
এসব অনিয়মের দায় স্বীকার করায় নিরাপদ খাদ্য আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হোসেন আলীর নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৯ লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ভবিষ্যতে দেশের প্রচলিত আইন ও খাদ্য নিরাপত্তা বিধিমালা অনুসরণ করে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

