চালেও সিসা, ফসলে বিষ! নিরাপদ খাদ্য নিয়ে উদ্বেগ কৃষিমন্ত্রীর
কীটনাশকের বিকল্প খোঁজা ও নিরাপদ ফসল উৎপাদনে নতুন নীতির তাগিদ; কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার আহ্বান।

তৃণমূল ২৪ | নিজস্ব প্রতিবেদক
খাদ্য উৎপাদনে গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য প্রতিষ্ঠা করা সরকারের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ। বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার ছাড়াই ফসল উৎপাদন সম্ভব—এমন নিশ্চয়তা কৃষকদের দিতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে খাদ্যের অভাবের চেয়ে মানসম্পন্ন ও নিরাপদ খাদ্যের অভাবই বড় চ্যালেঞ্জ। খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি উৎপাদিত খাদ্য কতটা নিরাপদ, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
তিনি বলেন, ফসল উৎপাদনে কীটনাশক বা পেস্টিসাইডের ব্যবহার নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় উদ্বেগের বিষয়। কীটনাশক ছাড়া নিরাপদ ফসল উৎপাদন সম্ভব কি না, তা নিয়ে গবেষণা করতে হবে। পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নীতি ও পরিকল্পনায় কোনো দুর্বলতা রয়েছে কি না, সেটিও চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
## চালেও সিসা দূষণ নিয়ে উদ্বেগ
দেশে চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার কথা উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, মাটিতে সিসার উপস্থিতির কারণে চালেও সিসা পাওয়া যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে উর্বর মাটি ও কৃষি উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জিত হয়নি। অন্যদিকে, অনেক দেশে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা ও সীমিত কৃষিজমি থাকা সত্ত্বেও তারা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে। এ অবস্থার পেছনে নীতি ও পরিকল্পনাগত কোনো দুর্বলতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষকের উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার হাতে পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে পরিকল্পনা ও নীতির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমেই খাদ্যনিরাপত্তা এবং নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
## গবেষণায় উদ্ভাবন আনলে আজীবন রয়্যালটির প্রতিশ্রুতি
নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, উদ্ভাবনী গবেষণার ক্ষেত্রে সরকার প্রণোদনা ও নিরাপত্তা দেবে। উল্লেখযোগ্য কোনো আবিষ্কার করতে পারলে সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবনের বিপরীতে আজীবন রয়্যালটির ব্যবস্থাও থাকবে।
বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের নিরাপদ কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কীটনাশকের ব্যবহার কমানো এবং কার্যকর বিকল্প পদ্ধতি উদ্ভাবনের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সভায় কৃষি সচিব মো. সেলিম খান সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াউকুন শি এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) বাংলাদেশ পরিচালক ভ্যালেন্টিন আচানচো।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. খন্দকার মো. ইফতেখারুদ্দৌলা।
তৃণমূল ২৪ | তৃণমূলের কণ্ঠস্বর



