
টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় শাহ আলম (৪৪) নামে এক সাব-ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া সেতুর কাছ থেকে শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বালাপাড়া এলাকার মৃত নবুর উদ্দিনের ছেলে।
এ ঘটনায় বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে বাসাইল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করতে দেখে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করতে বলেন। এ সময় তারা মোবাইল ফোনে ঢালাইয়ের ভিডিও ধারণ করেন। পরে স্থানীয়রা চলে গেলে রাতেই আবার ঢালাইয়ের কাজ শেষ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে ঘটনাটি।
সেতুটি বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস সড়ক ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কের ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে। ৯০ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের কাজ পেয়েছে ‘মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি)’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
ঘটনার পর মঙ্গলবার বিকেলে এলজিইডির ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেক সেতুটি পরিদর্শন করেন।
এদিকে ঘটনার সত্যতা যাচাই ও তদন্তের জন্য বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল হোসেনের নির্দেশে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। বাসাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) আহাদি হোসেনকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আলতাব হোসেন।
কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং নির্মাণকাজের ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানকেও কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।
বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ঠিকাদার বা তাদের প্রতিনিধির অনুমতি ছাড়াই রাতে নিয়মবহির্ভূতভাবে ফুটপাতের ঢালাই করা হয়েছে। খবর পাওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং থানায় মামলা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ল্যাব পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, মামলার দুই আসামির মধ্যে সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামি প্রধান ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দলও সেতুটি পরিদর্শন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নির্মাণকাজে প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে, তা তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পরই স্পষ্ট হবে।



