
তৃণমূল 24 ডেস্ক: আগস্ট ৮,২০২৬
বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো গেলে চাঁদাবাজি, জাল নোট এবং নগদ টাকা পরিবহনের ঝুঁকি কমবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
শনিবার (৮ আগস্ট) চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত বাংলা কিউআর লেনদেন বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থার (আইএফসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় পরিচালিত ‘ক্যাশলেস ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে ২০ জন নারী মার্চেন্টসহ প্রায় ১২০ জন বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী মার্চেন্ট অংশ নেন।
গভর্নর বলেন, বর্তমানে দেশে মাসে প্রায় এক কোটি বাংলা কিউআর লেনদেন হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে দৈনিক এক কোটি লেনদেনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তিনি বলেন, দেশে প্রায় ছয় কোটি মানুষ এখনো বাটন ফোন ব্যবহার করেন। অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও ইন্টারনেট সুবিধার সীমাবদ্ধতা ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। এ কারণে গ্রাহকদের স্বল্পমূল্যে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সরবরাহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।
মোস্তাকুর রহমান বলেন, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা ও কর্মচারীদের ওপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, জাল নোট এবং নগদ টাকা পরিবহনের ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।
তিনি আরও বলেন, টাকা ছাপাতে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো গেলে এই ব্যয়ের একটি অংশ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ২৪ লাখ মার্চেন্ট বাংলা কিউআর ব্যবহার করছেন। প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ লেনদেন হচ্ছে, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা।
আইএফসির প্রতিনিধি হাসান শাহরিয়ার বলেন, তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল মাসে ২০ লাখ লেনদেন। বর্তমানে মাসে প্রায় এক কোটি লেনদেন হওয়ায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
কর্মশালায় বাংলা কিউআরের ব্যবহার পদ্ধতি, সুবিধা, প্রয়োজনীয়তা ও সচেতনতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত লেনদেন, লেনদেনের খরচ কমানো এবং বাংলা কিউআর ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নিয়ে মার্চেন্টদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন গভর্নর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বাংলা কিউআর বাস্তবায়ন ইউনিটের প্রতিনিধিরাও কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।



