ভোরে হাঁটতে বেরিয়ে নিহত ফারুক, ১৩ বছর পর হত্যা মামলার রায়
আদালতের রায়ে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, চারজনের যাবজ্জীবন; একজন আসামি খালাস।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলায় সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর একজন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি দায়েরের প্রায় ১৩ বছর বছর পর রায় ঘোষণা করা হল।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন—সানিয়াত খান বাপ্পা, মো. আজাদ এবং মো. শাহজাহান মিয়া।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মো. সুজন, সানোয়ার হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও রুজবেল ইমন।
তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার অপর আসামি সঞ্জিত ঘোষকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর এলাকায় হাঁটতে বের হন রফিকুল ইসলাম ফারুক। বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় পরদিন নিহতের ছোট ভাই লাভলু মিয়া টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তবে ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে মামলার বাদী লাভলু মিয়া নারাজি আবেদন করেন।
পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। পুনঃতদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল আবারও আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এরপর আদালতে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।
সূত্র: আদালত ও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন।



