সুস্থ থাকতে হলে এই তিন বিষয়ে সচেতন হোন
pH ভারসাম্য, টক্সিন নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দমন
ডাক্তারের কলাম, তৃণমূলের কথা, বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
বর্তমান সময়ে মানুষের বেশিরভাগ অসুস্থতার শুরুটা খুব নীরবে হয়। প্রথমে একটু গ্যাস্ট্রিক, পরে কোষ্ঠকাঠিন্য, তারপর সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা, ত্বকের শুষ্কতা, মাথা ভার। অনেকেই ভাবেন—এগুলো তো ছোটখাটো সমস্যা। কিন্তু চিকিৎসা অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এই লক্ষণগুলোর পেছনে মূলত তিনটি বিষয় কাজ করে—
শরীরের pH ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, টক্সিন জমে থাকা এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার আধিক্য।
সহজভাবে বললে, pH হলো শরীরের ভেতরের এসিডিক ও এলকালাইন অবস্থার ভারসাম্য। মানবদেহের প্রতিটি কোষ নির্দিষ্ট pH পরিবেশে সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করে। এই ভারসাম্য নষ্ট হলে কোষের শক্তি উৎপাদন কমে যায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয় এবং প্রদাহ বাড়তে শুরু করে।
আজকের জীবনযাত্রায় আমরা কী করছি?
পর্যাপ্ত পানি পান করছি না,
খাবারের সময় অনিয়মিত,
ভাজাপোড়া, চা-কফি বেশি,
শীতকালে তো পানি প্রায় ভুলেই যাই।
এর ফলেই শরীর ধীরে ধীরে অতিরিক্ত এসিডিক হয়ে পড়ে। তখন কোষ ঠিকমতো অক্সিজেন নিতে পারে না, শরীরে টক্সিন জমতে থাকে, আর ক্ষতিকর bacteria সহজেই বংশবিস্তার করে। এখান থেকেই শুরু হয় গ্যাস্ট্রিক, কোষ্ঠকাঠিন্য, লিভারের চাপ, ত্বক ও চুলের সমস্যা।
বিশেষ করে শীতকালে পিপাসা কম লাগে বলে অনেকে পানি পান একেবারেই কমিয়ে দেন। অথচ পানি শুধু তৃষ্ণা মেটানোর জন্য নয়—এটি শরীরের ভেতরের বর্জ্য, টক্সিন ও ক্ষতিকর উপাদান বের করার প্রধান মাধ্যম। আমার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, যারা নিয়ম করে পর্যাপ্ত ও পরিষ্কার পানি, বিশেষ করে হালকা গরম পানি পান করেন—তাদের হজম শক্তি ভালো থাকে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং শরীর অনেক বেশি হালকা অনুভূত হয়।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার—
সুস্থ থাকতে হলে শুধু ওষুধের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না।
বরং আমাদের সচেতন হতে হবে এই তিনটি বিষয়ে:
- শরীরের pH ভারসাম্য
- শরীর থেকে টক্সিন অপসারণ
- ক্ষতিকর Bacteria নিয়ন্ত্রণ
মনে রাখবেন-
রোগ হঠাৎ করে আসে না। বছরের পর বছর ভুল অভ্যাস, কম পানি পান ও অনিয়মিত জীবনযাপন আমাদের কোষগুলোকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয়। তাই রোগের চিকিৎসার চেয়ে বেশি জরুরি হলো—সচেতন জীবনযাপন।
আরও মনে রাখবেন, সুস্থ শরীর শুরু হয় কোষ থেকে, আর কোষ সুস্থ থাকে সঠিক pH ও টক্সিনমুক্ত পরিবেশে।
লেখক-
ডা. মোহাম্মদ মোরশেদ আলম মাসুদ
রেজিস্টার্ড অল্টার্নেটিভ মেডিসিন প্র্যাকটিশনার
📞 WhatsApp: 01952393572