ডেস্ক রিপোর্ট | ঢাকা | মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার ইন্তেকালে দেশজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
বিএনপি সূত্র জানায়, আগামীকাল বুধবার বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হতে পারে। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি আইসিইউতে ছিলেন এবং তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত জটিল ও সংকটাপন্ন বলে এর আগে জানিয়েছিলেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
আজ সকালে দেশ ও জাতিকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী এই রাজনৈতিক নেত্রী।
গৃহবধূ থেকে রাজনীতির শীর্ষে
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ঘটে ১৯৮১ সালে, স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর হত্যাকাণ্ডের পর। নিতান্তই একজন গৃহবধূ হিসেবে জীবনযাপন করা খালেদা জিয়া হঠাৎ করেই রাজনীতির মূলধারায় প্রবেশ করেন এবং দ্রুতই হয়ে ওঠেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ।
রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রাম
বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন এবং ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকার প্রধান।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় তার জন্ম। শিক্ষা জীবন শেষে ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন। রাষ্ট্রপতির স্ত্রী হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন খালেদা জিয়া। এরশাদের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তিনি নেতৃত্ব দেন এবং সাত দলীয় জোট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এ আন্দোলনের কারণে তাকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়। আপোষহীন নেতৃত্বের কারণে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি পান ‘আপোষহীন নেত্রী’ হিসেবে।
প্রধানমন্ত্রীত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনা
১৯৯১ সালের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার শাসনামলে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, নারী শিক্ষা, পোশাক শিল্পের বিকাশ, শিক্ষা উপবৃত্তি ও প্রাথমিক শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়।
আন্তর্জাতিক পরিসরে তিনি গঙ্গার পানি বণ্টন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন।
ফোর্বস ম্যাগাজিন ২০০৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় তাকে ২৯তম স্থানে স্থান দেয়।
অনন্য রেকর্ড
বেগম খালেদা জিয়া জীবদ্দশায় যে কয়টি আসনে নির্বাচন করেছেন, তার কোনোটিতেই পরাজিত হননি— যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য রেকর্ড।



